স্বৈরাচারবিরোধী ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’-এর এক বছর পূর্তিতে রাজধানী ঢাকা যেন আবারো এক মহামিলনের সাক্ষী হলো।
আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) মানিক মিয়া এভিনিউতে দিনব্যাপী আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালায়’ যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় তিনি মঞ্চে আসেন, তার সঙ্গে প্রবেশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে একে একে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলের নেতারাও অংশ নেন।
এ অনুষ্ঠানে ছিলেন:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, এবং ড. আব্দুল মঈন খান
জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধিদল, নেতৃত্বে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি
১২ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা
এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে এক বছর আগের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন ঘটেছে আবারো। একাত্তরের পর এটাই প্রথমবার—এত ভিন্ন মতের দল এক মঞ্চে, এক বার্তায়।
আজ রাত ৮টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বাংলাদেশ বেতারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরাসরি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
এটাই হবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বার্তা। ধারণা করা হচ্ছে, ভাষণে থাকবে:
✅ নতুন সংবিধান প্রক্রিয়া
✅ বিচার সংস্কার ও ট্রাইব্যুনাল বাস্তবায়ন
✅ দমননীতির অবসান
✅ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন
✅ নির্বাচনকালীন রূপরেখা
সারাদিনব্যাপী জাতীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখর ছিল মানিক মিয়া এভিনিউ:
বাতাসে লেখা হয়—
“জনতার জয়, ফ্যাসিবাদের পতন”,
“৫ আগস্ট, আমাদের অভ্যুত্থান”
আধুনিক দেশাত্মবোধক ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন ‘চিরকুট’, ‘জলের গান’ ও ‘আর্টসেল’-এর সদস্যরা।
পূর্ববর্তী আন্দোলনের শহীদদের ছবি ও বার্তা দেখানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতা মুখোমুখি হয় ফ্যাসিবাদী দমনযন্ত্রের। শেখ হাসিনা সরকার তখন রাষ্ট্রীয় সহিংসতার আশ্রয় নেয়। যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, রামপুরায় গুলিতে প্রাণ হারান ৪০০+ শহীদ।
ওই রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে পালিয়ে যান ভারতে। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
একই মঞ্চে বিএনপি, জামায়াত, গণসংহতি, ইসলামি আন্দোলন—এত ভিন্ন রাজনীতির দলের ঐক্যপ্রয়াস এই প্রথম।
বিশ্লেষক ড. রাশেদুজ্জামান বলেন:
“এটি ১৯৯০-এর চেয়েও বড় জাতীয় ঐক্যের বার্তা। তবে এবার রক্তে অর্জিত, তাই জনগণ অধিক প্রত্যাশিত।”
মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আজ যে দৃশ্য দেখা গেল, তা ছিল একদিকে রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে বিজয়ের উদযাপন, অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা।
ড. ইউনূস আজকের ভাষণে সেই পথের দিকনির্দেশনা দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা জনতার।
‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’ আয়োজন কমিটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিটিভি ও বিটিভি নিউজ – সরাসরি সম্প্রচার, ৫ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিবেদক –现场 ফিড, মানিক মিয়া এভিনিউ
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রেস বিবৃতি
ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র, ‘স্বৈরাচার পতনের এক বছর’, ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |