প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
📅 তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৫
📰 বিশেষ প্রতিবেদন
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৯টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় তিন ধাপ উন্নতি পেয়ে ৯৪তম স্থানে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে এটি ছিল ৯৭তম।
তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে—এই উন্নতি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। কারণ, বাংলাদেশিদের প্রধান গন্তব্যগুলোতে ভিসা পাওয়া কঠিনতর হয়ে পড়েছে।
ভিসা ছাড়া যাওয়া যায় এমন দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে—মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাহামা, জ্যামাইকা, সেশেলস, সোমালিয়া, ফিজি, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, রুয়ান্ডা, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু ইত্যাদি।
তবে বাস্তবতা হলো—দক্ষিণ এশিয়ার চার-পাঁচটি দেশ বাদে অন্যসব গন্তব্যে বাংলাদেশি পর্যটকদের যাওয়া প্রায় নেই বললেই চলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি "গণনায় ভারি, ব্যবহারে হালকা" ধরনের সুবিধা।
২০২৫ সালের জুলাই মাসেই দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩০০’র বেশি বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।
ভিসা থাকা সত্ত্বেও ‘নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা’ ও ‘কাগজপত্রে অসঙ্গতি’ দেখিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তালতার পর থেকে ভারত ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করে। শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থ রোগী ছাড়া বাকি ভিসা আবেদন স্থগিত করা হয়—যা এখনো পুরোপুরি শিথিল হয়নি।
৮ মার্চ ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে ভিসা চালু করলেও, ১০ মে থেকে আবার নতুন করে বন্ধ করে দেয়।
এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আমিরাতে অবস্থানকারীদের মধ্যে ৮ শতাংশ বাংলাদেশি হলেও, ভিসা আইন ভাঙার ২৫ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে বাংলাদেশিদের দ্বারা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত তথ্যমতে,
ইউকে বাংলাদেশিদের ৫৪.৯০% ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে
বৈশ্বিক প্রত্যাখ্যান হার মাত্র ২১%
৩৮ হাজার আবেদনের মধ্যে ২০ হাজার ৯৬২টি প্রত্যাখ্যাত
শেঞ্জেন ভিসার ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র।
থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে এখন
ই-ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা কার্যত বন্ধ
ভিসা আবেদন করতে হচ্ছে ৪৫ দিন আগে
প্রত্যাখ্যানের হার অনেক বেড়ে গেছে
সাক্ষাৎকারে জবাব দিতে না পারা, ভুল তথ্য, অপরাধমূলক রেকর্ড—সবই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে
অসাধু এজেন্টের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র জমা
ইংরেজি বা স্থানীয় ভাষায় যোগাযোগে অক্ষমতা
সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের জবাবে অসংলগ্নতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহজনক পোস্ট
ভিসার মেয়াদ শেষে ফিরে আসার নিশ্চয়তা দিতে না পারা
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর ইতিহাস
মার্কিন দূতাবাস একাধিকবার জানিয়েছে—আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই করতে তাদের পোস্ট, তথ্য এবং অতীত রেকর্ড সবই খতিয়ে দেখা হয়।
অতীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিকমেন্ডেশন থাকলে সরকারি কর্মকর্তারা সহজে ভিসা পেতেন।
কিন্তু এখন এমন চিঠি থাকার পরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পর্যন্ত ভিসা পাননি।
এটি ইঙ্গিত দেয়—দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভিসা গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে।
ভিসা আবেদন জটিল হওয়ায় দালাল ও ভুয়া এজেন্সিগুলো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে।
ফেসবুক ও অনলাইনে ‘ভিসা গ্যারান্টি’ নামে শত শত পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে।
প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই টাকা দিয়ে না ভিসা, না পাসপোর্ট—কিছুই ফেরত পান না।
বাংলাদেশ সরকার ই-পাসপোর্ট চালু করে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও
পাসপোর্ট প্রযুক্তি ও ভিসা গ্রহণযোগ্যতা—দুটি আলাদা বিষয়।
বিদেশি দূতাবাসগুলো মূলত আবেদনকারীর
ব্যক্তিগত ব্যাকগ্রাউন্ড
ভবিষ্যতের ফেরত-যাত্রার সম্ভাবনা
অপরাধমূলক রেকর্ড
আর্থিক স্বচ্ছতা
এসবই যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৫
মালয়েশিয়া ও ইউএই ইমিগ্রেশন তথ্য, জুলাই ২০২৫
যুক্তরাজ্য হোম অফিস, ডিসেম্বর ২০২৪
মার্কিন দূতাবাস ঢাকা অফিসিয়াল পেজ, জুন–জুলাই ২০২৫
যুগান্তর, ৪–৫ আগস্ট ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |