প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংরক্ষিত নথি, Jugantor রাজনৈতিক আর্কাইভ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত আলোচনা সভা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
তিনি বলেন:
“জুলাই অভ্যুত্থানের সাহস ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। এ জন্য আমাদের সবার দায়িত্ব সৎ, দক্ষ ও নিরপেক্ষ থেকে পালন করতে হবে।”
মাহবুবা ফারজানা বলেন, এই অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের ত্যাগ ও যন্ত্রণা অনুভব করতে হবে জাতিকে। শহীদদের পরিবারের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহি থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন:
“এইসব পরিবারকে আমরা কী দিয়েছি? কেমন চলছে তাঁদের জীবন? এখন সময় এসেছে—আমরা যেন সত্যিকার অর্থে এই প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজি।”
সাবেক সরকারের ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন:
“তখন গণতন্ত্র ছিল নামমাত্র। তরুণ সমাজের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল। ছাত্ররা ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামলে তাদের গুলি করা হতো। সেই গুলির রক্ত এখনও জাতীয় পতাকার লাল রঙে লেগে আছে।”
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন:
“নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো কোনো পেশাদার বাহিনীর কাজ নয়।”
তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হলে:
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে
প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
বিরুদ্ধ মতের প্রতি সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে
“দীর্ঘদিন ধরে যে জঞ্জাল তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হলে আমাদের মন থেকে শুরু করতে হবে। সততা, নিরপেক্ষতা আর দায়িত্ববোধ থাকলে পরিবর্তন সম্ভব।”
বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ
১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ: গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি
১৯৯০ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন: ছাত্র–জনতার বিজয়
২০১৮–২০২৩: কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন
২০২৫: জুলাই অভ্যুত্থান—ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণদের আত্মবলিদান
জুলাই অভ্যুত্থান তাই এই ধারাবাহিকতারই আরেকটি অধ্যায়, যেখানে নতুন প্রজন্ম আবারও রাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়েছে।
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন—
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ডিজি ফায়জুল হক
বাংলাদেশ বেতারের ডিজি এ এস এম জাহীদ
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ডিজি খালেদা বেগম
তাঁরাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর জোর দেন।
| ক্ষেত্র | করণীয় |
|---|---|
| গণমাধ্যম | স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা |
| প্রশাসন | দলীয়করণমুক্ত, সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | মানবাধিকার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি |
| শিক্ষা ও তরুণ সমাজ | অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক চর্চা ও আন্দোলনের নিরাপত্তা |
মাহবুবা ফারজানার বক্তব্য শুধু একটি স্মরণসভা নয়—এটি যেন রাষ্ট্রের সামনে রাখা এক প্রশ্নচিহ্ন:
“তরুণদের রক্তের মূল্য কী? আমরা কি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চাচ্ছি, নাকি শুধুই শোক প্রকাশ করছি?”
বাংলাদেশ আজ এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে গণতন্ত্র আর ফ্যাসিবাদের দ্বন্দ্ব দিনের পর দিন তীব্রতর হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রশাসন, রাজনীতি, মিডিয়া এবং জনগণ—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আমরা কোন বাংলাদেশ চাই?
সূত্র:
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, ৩ আগস্ট ২০২৫
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রেস ব্রিফিং
Jugantor ও BBC South Asia Political Review (2023–2025)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |