ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে তার একাধিক বিতর্কিত কাজের পরিপ্রেক্ষিতে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ৬ মাস বয়সী যমজ শিশুসহ এক নারীকে থানায় আটক রাখা এবং সেই ঘটনার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ।
গত ৯ জুলাই, উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের নিজবানাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. বায়োজিদের স্ত্রী নিশিদ আক্তারকে গভীর রাতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি অনুরোধ করেছিলেন তার ৬ মাস বয়সী যমজ সন্তানদের নিয়ে যেতে না, কিন্তু তবুও জোর করে থানায় নিয়ে হাজতে আটকে রাখা হয়। পরদিন থানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে মা ও সন্তানদের ছবি প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পাকিস্তান আমলে পুলিশ ছিল রাজনৈতিক শোষণের হাতিয়ার। তখন থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কিছু পুলিশ সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, অনেকের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতার অভিযোগও উঠে।
স্বৈরশাসনের সময় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় পুলিশ। তখন গণআন্দোলন দমন ও বিনা বিচারে আটক ছিল সাধারণ চিত্র।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরেও পুলিশ বিভাগে স্বচ্ছতা আসেনি। বরং, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিচারবহির্ভূত গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পদক্ষেপও জনগণের সরাসরি নজরে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শুধু আইন প্রয়োগকারী নয়, বরং জনসম্পৃক্ততারও অংশীদার।
১. শিশু অধিকার লঙ্ঘন: বাংলাদেশ শিশু আইন অনুযায়ী, শিশুদের তাদের মায়ের অপরাধের জন্য থানায় আটকে রাখা অনৈতিক এবং অবৈধ।
২. প্রাইভেসি ভঙ্গ: অভিযুক্ত নারীর ও তার শিশুর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।
৩. মানবিকতা বিবর্জিত আচরণ: পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগণকে রক্ষা করা, আতঙ্কিত করা নয়। বিশেষ করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
আইনজীবী হাবিবুর রহমান ফকির বলেন,
"রাতের বেলা একজন নারীকে যমজ সন্তানসহ গ্রেফতার এবং পরে ছবি প্রকাশ করা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এটি পুলিশের সীমা লঙ্ঘনের জ্বলন্ত উদাহরণ।"
ওসি আনোয়ার হোসেন নিজেও বলেন,
"এটা একটি ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ছবি প্রকাশে আমরা আরও সতর্ক থাকব।"
স্থানীয়দের বক্তব্য:
"শিশুদের নিয়ে হাজতে রাখা আমাদের মনুষ্যত্বের প্রশ্ন। পুলিশ কি আইন রক্ষা করছে, না আইন ভাঙছে?"
পুলিশ বিভাগে মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
থানার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন।
শিশু ও নারীদের গ্রেপ্তারে মানবিক ও আইনগত দিক বিবেচনায় নিতে হবে।
বিচারবহির্ভূত সিদ্ধান্ত ও প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা যেন শাস্তির আওতায় আসে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নান্দাইল থানার এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচ্য। পুলিশ প্রশাসনে পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও মানবতা—এই তিনটির সমন্বয় ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
এ ঘটনা একটি জাগরণ ডাক। এখন সময় এসেছে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন ও গণবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার। আর তার প্রথম ধাপ হতে পারে—মানবিকতার শপথ।
ভিউজ বাংলাদেশ: ‘Police picks up woman with 6‑month‑old twins, posts photos on Facebook’, ২৬ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |