ডলারের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৌশলী নিলাম: মুদ্রাবাজারে নতুন সংকেত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, বণিক বার্তা, প্রথম আলো বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ডলার কেনার মাধ্যমে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ২৩ জুলাই নিলামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার কাট-অফ রেট ধরা হয় ১২১.৯৫ টাকা। এর মাধ্যমে তারা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—ডলারের মূল্য কিছুটা বাড়ানোর কৌশলগত প্রয়াস চলছে।
কেন এই নিলাম? কী বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক?
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এর আগেই বলেছিলেন,
"আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে ডলার কিনব বা বিক্রি করব।"
এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু থাকলেও নিলামের মাধ্যমে কৌশলগত হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক—যেটি আইএমএফের শর্ত পূরণে সহায়ক এবং বাজারে ‘আপওয়ার্ড সিগন্যাল’ দেওয়ার চেষ্টা।
সাম্প্রতিক নিলামগুলো এক নজরে:
| নিলামের তারিখ | কেনা ডলারের পরিমাণ | কাট-অফ রেট (BDT) |
|---|
| ১৩ জুলাই | ১৭৩ মিলিয়ন | ১২১.৫০ টাকা |
| ১৫ জুলাই | ৩১৩ মিলিয়ন | ১২১.৫০ টাকা |
| ২৩ জুলাই | ১০ মিলিয়ন | ১২১.৯৫ টাকা |
মোট কেনা হয়েছে ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকগুলোর প্রতিক্রিয়া: প্রত্যাশা বেড়েছে, সরবরাহ কমেছে
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ডিএমডি বলেন:
"অনেক ব্যাংক ভাবছে সামনে ডলারের দাম আরও বাড়বে, তাই তারা নিলামে অংশ নেয়নি।"
ঢাকা ব্যাংকের এমডি শেখ মোহাম্মদ মারুফ বলেন:
"বর্তমানে ব্যাংকগুলো নিজের মজুদ দিয়েই দায় পরিশোধে আগ্রহী।"
পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলীর মত:
"এলসি চাপ বাড়ছে, তবে ডলারের প্রবাহও বাড়তে পারে—যা পরিস্থিতি সামাল দেবে।"
বিনিময় হার ও বাজার চিত্র:
-
স্পট রেট (২৩ জুলাই): ১২১.৯৪ টাকা
-
আন্ত ব্যাংক হার: ১২১.৬০ – ১২২.০২ টাকা
-
আশঙ্কা: বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে
আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবর্তিত ভূমিকা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান,
"আগে রেট নির্ধারণ করতাম, এখন বাজারই তা ঠিক করছে। এটা বাজারকে স্বচ্ছতা দিচ্ছে।"
উপসংহার:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এই নিলাম একটি দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা। ডলারের দর নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এখন ব্যাংকগুলোর মনস্তত্ত্ব ও বাজার প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।
সাবধানতাসম্পন্ন এই কৌশল যদি সফল হয়, তাহলে আগামী মাসগুলোতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং আমদানি-রপ্তানি খাতও কিছুটা শ্বাস নিতে পারবে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন