চট্টগ্রাম, ২০ জুলাই ২০২৫ – “আমরা আপনাদের কাছে কোনো দল হিসেবে আসিনি, এসেছি শহীদদের পরিবার হিসেবে”—এমন আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ সকালে মোটেল সৈকতে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন:
“শহীদ পরিবারগুলো এখনো পূর্ণ সম্মান পাচ্ছে না। আমরা দেখছি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে—যারা জনগণের রক্ত দিয়ে অর্জিত মূল্যবোধের স্বীকৃতি দিতে চায় না।”
তিনি অভিযোগ করেন, ২৪-এর শহীদদের পরিবারের অনেকেই আজো রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গণনার বাইরে’।
“আমরা যখন সরকারে ছিলাম, বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামোর জটিলতায় সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি।”
এ কথায় স্পষ্ট হয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়নের মধ্যে বিভাজন এখনো দেশের প্রশাসনে বড় সংকট।
নাহিদ ইসলাম একটি স্পষ্ট বার্তা দেন:
“শহীদরা কোনো দলের ছিলেন না। তাঁরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাঁদের পরিবারগুলোও যেন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের শিকার না হয়, সেটাই আমাদের দাবি।”
এই সংলাপে নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি ইতোমধ্যে চালু করেছে একটি ‘শহীদ কল্যাণ-আহত সেল’, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে:
শহীদ পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছে
চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য যোগাযোগ রাখছে
স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের মাধ্যমে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক তৈরি করছে
নাহিদ ইসলাম বলেন:
“এই যে আমরা শুনছি, দেখছি, বোঝার চেষ্টা করছি—সব মিলিয়ে আমরা আগামী ৩ আগস্ট ঢাকায় একটি বড় প্রোগ্রামে 'জুলাই সনদ' প্রকাশ করব। এটি হবে রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি। সরকারও বলেছে, ৫ আগস্টের মধ্যে তাদের পক্ষ থেকে নীতিগত ঘোষণা আসবে।”
এই “জুলাই সনদ” বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে একটি ‘People’s Manifesto’ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
২০২৪ সালের শেষদিকে শুরু হওয়া জুলাই আন্দোলনে নিহত হন অন্তত ৬০+ জন। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হন।
তাদের পরিবারগুলো এখনও পর্যন্ত:
সরকারপ্রদত্ত অর্থ বা পুনর্বাসন সুবিধা পাননি
স্থানীয় প্রশাসন থেকে হেনস্তা ও নজরদারির শিকার
রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য বিবেচনায় ‘যোগ্য শহীদ’ বা ‘অযোগ্য শহীদ’ তকমা পেয়েছেন
এখানে “শহীদ মানে দল নয়, শহীদ মানে দেশ”—এই নীতিই তুলে ধরছে এনসিপি।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে আজ স্পষ্ট ছিল—এটি একটি রাজনৈতিক দল নয়, একটি জাতিগত নৈতিক দায়বোধ।
প্রশাসনের দায়িত্ব হলো শহীদ পরিবারকে সম্মান, সেবা ও স্বীকৃতি দেওয়া।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে এই সম্মান নিশ্চিত না করা হলে, রাষ্ট্র তার নৈতিক অধঃপতনে পৌঁছায়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |