নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১২ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ সরকার একযোগে ১৮ জন বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, যা দেশের বিচার বিভাগে বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংবিধান ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এই সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন:
“১৮ জন বিচারককে অবসারে পাঠানো হয়েছে।
যুগান্তকারী সাহসী সিদ্ধান্ত। অনেক বড় সংস্কার। সবার জন্যই শিক্ষা আছে। সাধু সাবধান।”
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাকরির বয়স ও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫৪ ধারা অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মকর্তা ২৫ বছর পূর্ণ করলে সরকার চাইলে তাকে অবসর দিতে পারে—এটি সরকারের প্রশাসনিক এখতিয়ারভুক্ত সিদ্ধান্ত।
শিশির মনিরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী,
“এটি কেবল অবসরের সিদ্ধান্ত নয়—বরং একটি প্রশাসনিক বার্তা। যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেতও বটে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিচার বিভাগে পেশাগত জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচারের বার্তা বহন করছে।
বিচার বিভাগের অনেকেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কিছু মহলে এ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে—এই অবসর কি কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে, নাকি এটি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পক্ষপাতের ফল?
একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“যদি এটি কেবল আইন অনুযায়ী নিয়মিত অবসর হয়, তাহলে সমস্যা নেই। তবে এর পেছনে কোনো গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে, সেটি বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।”
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় আগে একযোগে এতসংখ্যক বিচারককে অবসরে পাঠানোর ঘটনা অতি বিরল। সাধারণত বয়সসীমা পূর্ণ হলে বিচারক স্বাভাবিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। তবে সরকার ৫৪ ধারায় ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট’ এর ভিত্তিতে কাউকে আগাম অবসরে পাঠাতে পারে।
এর আগে ২০২১ সালে তিনজন বিচারককে একই ধারায় অবসরে পাঠানো হয়, তবে এই সংখ্যাটি এবার ১৮-তে পৌঁছেছে, যা নজিরবিহীন।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগে নিয়মশৃঙ্খলা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা কিনা—তা সময়ই বলে দেবে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা কার্যকর হলে বিচারব্যবস্থায় দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
শিশির মনিরের মতো প্রভাবশালী আইনবিদ যখন বলেন—
“সবার জন্য শিক্ষা আছে”—
তখন সেটি শুধুই অবসরের বার্তা নয়, বরং পেশাগত সততা ও জনআস্থার প্রশ্নে একটি প্রশাসনিক বার্তাও বটে।
তথ্যসূত্র: সরকারি প্রজ্ঞাপন, অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের ফেসবুক পোস্ট, বিচার প্রশাসন বিশ্লেষক মন্তব্য
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন | আইন ও বিচার বিভাগ | ১২ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |