বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিবেদক
তারিখ: ২৪ জুন ২০২৫ | ঢাকা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন এবং ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পুনরায় স্বীকৃতি পেল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে, কারণ দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর জামায়াত আবার নির্বাচনী রাজনীতির বৈধ প্ল্যাটফর্ম ফিরে পেল।
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নিবন্ধন অনুমোদন করে নির্বাচন কমিশন (নিবন্ধন নম্বর-০১৪)। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ কয়েকজন হাইকোর্টে রিট করেন, জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে।
২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন 'অবৈধ' ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে জামায়াত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে Civil Appeal No. 139 of 2013 ও Civil Petition for Leave to Appeal No. 3112 of 2013 দায়ের করে।
তবে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিলকারীরা উপস্থিত না থাকায় আপিল বিভাগ আবেদন খারিজ করে দেয়।
২০২৪ সালে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পর, জামায়াত দলীয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত করে তাদের আপিল ও লিভ টু আপিল। পরে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিস্টোর করার আবেদন মঞ্জুর করে এবং মামলাটি পুনরায় কার্যতালিকায় ওঠে।
অবশেষে একাধিক শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আগের রায় বাতিল করে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে:
“সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নামীয় দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ২৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের প্রজ্ঞাপনটি বাতিলক্রমে দলটির নিবন্ধন দলীয় প্রতীকসহ পুনর্বহাল করা হলো।”
এই ঘোষণার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
নিবন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত তাদের আগের নির্বাচনী প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা'-ও পুনরায় ফিরে পেয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রতীকটি দলটির সাংগঠনিক পরিচিতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এখন দলের সামনে জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরত পাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করা জামায়াত এখন নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে পারে, বিশেষ করে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায়।
তবে অন্যদিকে, জামায়াতবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখছে। ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে যে—যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের অতীত জড়িত থাকার দলটি নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরলে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে।
দলটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আপিল বিভাগের এই রায়কে আইনের শাসনের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।
তিনি বলেন, “আমরা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে চাই। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগোতে চাই।”
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |