স্পোর্টস ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল ২০২৫
পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর মঞ্চে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন যেন উঠে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। টুর্নামেন্টে অভিষেক করেই দুই ম্যাচে টানা তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলা এই তরুণ স্পিনার এখন পর্যন্ত আসরের অন্যতম শীর্ষ উইকেট শিকারি।
গত ১৩ এপ্রিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে পিএসএলে অভিষেক হয় রিশাদের। সেই ম্যাচেই ৩১ রানের খরচায় ৩ উইকেট শিকার করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে করাচি কিংসের বিপক্ষেও ছিল তার দারুণ পারফরম্যান্স। ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ম্যাচে অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিশাদ। প্রথম বলেই শান মাসুদকে বোল্ড করে করাচিকে চাপে ফেলে দেন। এরপর ওভারের পঞ্চম বলে ফেরান ইরফান খানকে। প্রথম ওভারেই মাত্র ১ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে আরও সুনিপুণ বোলিং করে মাত্র ৩ রানে শিকার করেন আব্বাস আফ্রিদিকে।
তৃতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট নিতে পারতেন রিশাদ। খুশদিল শাহের ক্যাচটি সিকান্দার রাজা ধরলেও তা বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করায় তা ছক্কা হিসেবে গণ্য হয়। তবে এতে তার পারফরম্যান্সের উজ্জ্বলতায় এতটুকু ভাটা পড়েনি।
এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাচ শেষে রিশাদ পান ৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির প্রাইজমানি।
রিশাদের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ লাহোর কালান্দার্স অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,
“আইপিএলের কারণে আমরা রশিদ খানকে এই মৌসুমে পাচ্ছি না। তবে রিশাদ দারুণভাবে সেই ঘাটতি পূরণ করছে। বাংলাদেশের হয়ে সে যেমন ভালো বল করে, তেমনি এখন আমাদের দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বোলার হয়ে উঠেছে। মিডল ওভারে নিয়মিত উইকেট এনে দিচ্ছে, যেটা আমাদেরট্যাকটিক্সে বড় ভূমিকা রাখছে।”
বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা সাধারণত পিএসএলে সুযোগ পান না বা পেলেও তেমন পারফর্ম করতে পারেন না—এই ধারণা রিশাদ হোসেন ভেঙে দিচ্ছেন চোখে পড়ার মতোভাবেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতির পর এবার তিনি প্রমাণ করছেন, দেশের বাইরেও তার কার্যকারিতা রয়েছে।
বিশেষ করে একজন লেগ স্পিনার হিসেবে তার লাইন-লেংথ, গুগলি ও নিয়ন্ত্রিত বৈচিত্র্য প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বিপাকে ফেলছে। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের তারকা স্পিনার হিসেবে দেখছেন।
রিশাদের দল লাহোর কালান্দার্সের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ এপ্রিল। তার আগ পর্যন্ত থাকবে বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময়। তবে এখন পর্যন্ত তার পারফরম্যান্সের ধারা অব্যাহত থাকলে প্লে-অফ পর্বেও তাকে দলের মূল অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |